সহীহ বুখারী শরীফ অধ্যায় "হজ্জ" হাদিস নং -১৬৫১ থেকে ১৭০০

১৬৫১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ قَالَ ح وَقَالَ لِي خَلِيفَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ حَدَّثَنَا حَبِيبٌ الْمُعَلِّمُ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ أَهَلَّ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هُوَ وَأَصْحَابُهُ بِالْحَجِّ وَلَيْسَ مَعَ أَحَدٍ مِنْهُمْ هَدْيٌ غَيْرَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَطَلْحَةَ وَقَدِمَ عَلِيٌّ مِنْ الْيَمَنِ وَمَعَهُ هَدْيٌ فَقَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ فَأَمَرَ النَّبِيُّ أَصْحَابَهُ أَنْ يَجْعَلُوهَا عُمْرَةً وَيَطُوفُوا ثُمَّ يُقَصِّرُوا وَيَحِلُّوا إِلاَّ مَنْ كَانَ مَعَهُ الْهَدْيُ فَقَالُوا نَنْطَلِقُ إِلَى مِنًى وَذَكَرُ أَحَدِنَا يَقْطُرُ فَبَلَغَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ لَوْ اسْتَقْبَلْتُ مِنْ أَمْرِي مَا اسْتَدْبَرْتُ مَا أَهْدَيْتُ وَلَوْلاَ أَنَّ مَعِي الْهَدْيَ لأحْلَلْتُ وَحَاضَتْ عَائِشَةُ فَنَسَكَتْ الْمَنَاسِكَ كُلَّهَا غَيْرَ أَنَّهَا لَمْ تَطُفْ بِالْبَيْتِ فَلَمَّا طَهُرَتْ طَافَتْ بِالْبَيْتِ قَالَتْ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم تَنْطَلِقُونَ بِحَجَّةٍ وَعُمْرَةٍ وَأَنْطَلِقُ بِحَجٍّ فَأَمَرَ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ أَبِي بَكْرٍ أَنْ يَخْرُجَ مَعَهَا إِلَى التَّنْعِيمِ فَاعْتَمَرَتْ بَعْدَ الْحَجِّ
জাবির ইব্‌নু ‘আব্দুল্লাহর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জ-এর ইহ্‌রাম বাঁধেন, তাঁদের মাঝে কেবল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত অন্য কারো সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল না। ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে আগমন করে, তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি [আলী (রাঃ)] বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেরূপ ইহ্‌রাম বেঁধেছেন, আমি ও সেরূপ ইহ্‌রাম বেঁধেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাহাবীগণের মধ্যে যাদের নিকট কুরবানীর পশু ছিল না, তাদের ইহ্‌রামকে ‘উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন, তারা যেন তাওয়াফ করে, চুল ছেঁটে অথবা মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। তারা বলাবলি করতে লাগলেন, (যদি হালাল হয়ে যাই তা হলে) স্ত্রীর সাথে মিলনের পরপরই আমাদের পক্ষে মিনায় যাওয়াটা কেমন হবে! তা অবগত হয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি পরে যা জানতে পেরেছি তা যদি আগে জানতে পারতাম, তাহলে কুরবানীর পশু সাথে আনতাম না। আমার সাথে কুরবানীর পশু না থাকলে অবশ্যই ইহ্‌রাম ভঙ্গ করতাম। (হজ্জ এর সফরে) ‘আয়েশা (রাঃ) ঋতুবতী হওয়ার কারণে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জ-এর অন্য সকল কাজ সম্পন্ন করে নেন। পবিত্র হওয়ার পর তাওয়াফ আদায় করেন, (ফিরার পথে) ‘আয়েশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সকলেই হজ্জ ও ‘উমরাহ উভয়টি আদায় করে ফিরছে, আর আমি কেবল হজ্জ আদায় করে ফিরছি, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু আবূ বকর (রাঃ) -কে নির্দেশ দিলেন, যেন ‘আয়েশা (রাঃ) -কে নিয়ে তান’ঈমে চলে যান, সেখানে গিয়ে ‘উমরাহর ইহ্‌রাম বাঁধবেন)। ‘আয়েশা (রাঃ) হজ্জের পর ‘উমরাহ আদায় করে নিলেন। (১৫৫৭)
(আঃপ্রঃ১৫৩৯, ইঃফাঃ১৫৪৫)

১৬৫২

حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ كُنَّا نَمْنَعُ عَوَاتِقَنَا أَنْ يَخْرُجْنَ فَقَدِمَتْ امْرَأَةٌ فَنَزَلَتْ قَصْرَ بَنِي خَلَفٍ فَحَدَّثَتْ أَنَّ أُخْتَهَا كَانَتْ تَحْتَ رَجُلٍ مِنْ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ غَزَا مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم ثِنْتَيْ عَشْرَةَ غَزْوَةً وَكَانَتْ أُخْتِي مَعَهُ فِي سِتِّ غَزَوَاتٍ قَالَتْ كُنَّا نُدَاوِي الْكَلْمَى وَنَقُومُ عَلَى الْمَرْضَى فَسَأَلَتْ أُخْتِي رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَتْ هَلْ عَلَى إِحْدَانَا بَأْسٌ إِنْ لَمْ يَكُنْ لَهَا جِلْبَابٌ أَنْ لاَ تَخْرُجَ قَالَ لِتُلْبِسْهَا صَاحِبَتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا وَلْتَشْهَدْ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُؤْمِنِينَ فَلَمَّا قَدِمَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ سَأَلْنَهَا أَوْ قَالَتْ سَأَلْنَاهَا فَقَالَتْ وَكَانَتْ لاَ تَذْكُرُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَبَدًا إِلاَّ قَالَتْ بِأَبِي فَقُلْنَا أَسَمِعْتِ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ كَذَا وَكَذَا قَالَتْ نَعَمْ بِأَبِي فَقَالَ لِتَخْرُجْ الْعَوَاتِقُ ذَوَاتُ الْخُدُورِ أَوْ الْعَوَاتِقُ وَذَوَاتُ الْخُدُورِ وَالْحُيَّضُ فَيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُسْلِمِينَ وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى فَقُلْتُ أَالْحَائِضُ فَقَالَتْ أَوَلَيْسَ تَشْهَدُ عَرَفَةَ وَتَشْهَدُ كَذَا وَتَشْهَدُ كَذَا
হাফসাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আমাদের যুবতীদেরকে বের হতে নিষেধ করতাম। এক মহিলা বনূ খালীফা-এর দুর্গে এলেন। তিনি বর্ণনা করেন যে, তাঁর বোন আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর এক সাহাবীর সহধর্মিণী ছিলেন। যিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহন করেছিলেন, (সেগুলোর মধ্যে) ছয়টি যুদ্ধে আমার বোনও স্বামীর সঙ্গে ছিলেন। তাঁর বোন বলেন, আমরা আহত যোদ্ধা ও অসুস্থ সৈনিকদের সেবা করতাম। আমার বোন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, আমাদের মধ্যে যার (শরীর উত্তমরূপে আবৃত করার মত) চাদর নেই, সে বের না হলে অন্যায় হবে কি? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের একজন অপরজনকে তাঁর প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাদরটি দিয়ে দেয়া উচিত এবং কল্যাণমূলক কাজে ও মু’মিনদের দু’আয় বের হওয়া উচিত। উম্মু ‘আতিয়া (রাঃ) উপস্থিত হলে এ বিষয়ে তাঁর নিকট আমি জিজ্ঞেস করলাম, তিনি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কথা (আমার পিতা উৎসর্গ হোন) ব্যতীত কখনও উচ্চারণ করতেন না। আমি তাঁকে বললাম, আপনি কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার পিতা উৎসর্গ হোন। তিনি বললেনঃ যূবতী ও পর্দাশীলা নারীদেরও বের হওয়া উচিত। অথবা বললেনঃ পর্দাশীলা যুবতী ও ঋতুবতীদেরও বের হওয়া উচিত। তাঁরা কল্যাণমূলক কাজে এবং মুসলমানদের দু’আয় যথাস্থানে উপস্থিত হবে। তবে ঋতুবতী মহিলাগণ সলাতের স্থানে উপস্থিত হবে না। আমি জিজ্ঞেস করলাম, ঋতুবতী মহিলাও কি? তিনি বললেনঃ (কেন উপস্থিত হবে না?) তাঁরা কি ‘আরাফার ময়দানে এবং অমুক অমুক স্থানে উপস্থিত হবে না? (৩২৪)
(আঃপ্রঃ১৫৪০, ইঃফাঃ১৫৪৬)

২৫/৮২. অধ্যায়ঃ

মক্কার অধিবাসী এবং হজ্জ (তামাত্তু’) সম্পন্নকারীদের ইহ্‌রাম বাঁধার জায়গা বাতহা ও এ ছাড়া অন্যান্য স্থান অর্থাৎ মক্কার সমস্ত ভূমি এবং মক্কাবাসী হাজীগণ যখন মিনার দিকে রওয়ানা করবে তখন তাঁদের করণীয় কী?
‘আত্বা (রহঃ)-কে এ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেন, ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) তালবিয়ার দিন (যিলহজ্জ মাসের ৮ তারিখে) যুহরের সালাত শেষে সওয়ারীতে আরোহণ করে তালবিয়া পাঠ আরম্ভ করতেন। ‘আবদুল মালিক (রহঃ), ‘আত্বা ও জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে মক্কায় এসে যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত বিনা ইহরামে অবস্থান করি এবং মক্কা নগরীকে পিছনে রেখে যাওয়ার সময় আমরা হজ্জের তালবিয়া পাঠ করেছিলাম। আবূ যুবাইর (রহঃ) জাবির (রাঃ) -এর উক্তি বর্ণনা করেন যে, আমরা বাতহায় বাঁধি। ‘উবাইদ ইবনু জুরাইজ (রহঃ) ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) কে বললেন, যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ দেখেই লোকেরা ইহরাম বাঁধতেন, কিন্তু আপনাকে দেখেছি মক্কায় অবস্থান করেও যিলহজ্জ মাসের আট তারিখ পর্যন্ত ইহ্‌রাম বাঁধেননি! তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে নিয়ে যতক্ষণ না সওয়ারী উঠে দাঁড়াতো ততক্ষণ তাঁকে তালবিয়া পাঠ করতে দেখিনি।

২৫/৮৩. অধ্যায়ঃ

তারবিয়ার দিন (যিলহজ্জ মাসের আট তারিখে) হাজী কোন্ স্থানে যুহরের সালাত আদায় করবে?

১৬৫৩

حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الأَزْرَقُ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ رُفَيْعٍ قَالَ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ قُلْتُ أَخْبِرْنِي بِشَيْءٍ عَقَلْتَهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَيْنَ صَلَّى الظُّهْرَ وَالْعَصْرَ يَوْمَ التَّرْوِيَةِ قَالَ بِمِنًى قُلْتُ فَأَيْنَ صَلَّى الْعَصْرَ يَوْمَ النَّفْرِ قَالَ بِالأَبْطَحِ ثُمَّ قَالَ افْعَلْ كَمَا يَفْعَلُ أُمَرَاؤُكَ
‘আবদুল ‘আযীয ইব্‌নু রুফাইয়’ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে আপনি যা উত্তমরূপে স্মরণ রেখেছেন তার কিছুটা বলুন। বলুন, যিলহজ্জ মাসের আট তারিখে যুহর ও ‘আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করতেন? তিনি বললেন, মিনায়। আমি বললাম, মিনা হতে ফিরার দিন ‘আসরের সালাত তিনি কোথায় আদায় করেছেন? তিনি বললেন, মুহাস্‌সাবে। এরপর আনাস (রাঃ) বললেন, তোমাদের আমীরগণ যেরূপ করবে, তোমরাও অনুরূপ কর।
(১৬৫৪, ১৭৬৩, মুসলিম ১৫/৫৮, হাঃ ১৩০৯) (আঃপ্রঃ ১৫৪১, ইঃফাঃ ১৫৪৭)

১৬৫৪

حَدَّثَنَا عَلِيٌّ سَمِعَ أَبَا بَكْرِ بْنَ عَيَّاشٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ لَقِيتُ أَنَسًا ح وحَدَّثَنِي إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبَانَ حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ قَالَ خَرَجْتُ إِلَى مِنًى يَوْمَ التَّرْوِيَةِ فَلَقِيتُ أَنَسًا ذَاهِبًا عَلَى حِمَارٍ فَقُلْتُ أَيْنَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم هَذَا الْيَوْمَ الظُّهْرَ فَقَالَ انْظُرْ حَيْثُ يُصَلِّي أُمَرَاؤُكَ فَصَلِّ
‘আবদুল ‘আযী্য (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, যিলহজ্জ মাসের আট তারিখে মিনার দিকে বের হলাম, তখন আনাস (রাঃ) -এর সাক্ষাৎ লাভ করি, তিনি গাধার পিঠে আরোহণ করে যাচ্ছিলেন, আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, এ দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোথায় যুহরের সালাত আদায় করেছিলেন? তিনি বললেন, তুমি লক্ষ্য রাখবে যেখানে তোমার আমীরগণ সালাত আদায় করবে, তুমিও সেখানেই সালাত আদায় করবে। (১৬৫৩)
(আঃপ্রঃ ১৫৪২, ইঃফাঃ ১৫৪৮)

২৫/৮৪. অধ্যায়ঃ

মিনায় সালাত আদায় করা।

১৬৫৫

حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ عَنْ أَبِيهِ قَالَ صَلَّى رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ وَأَبُو بَكْرٍ وَعُمَرُ وَعُثْمَانُ صَدْرًا مِنْ خِلاَفَتِهِ
‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিনায় দু’রাক’আত সালাত আদায় করেছেন এবং আবূ বকর, ‘উমর (রাঃ) -ও। আর ‘উসমান (রাঃ) তাঁর খিলাফতের প্রথম ভাগেও দু’রাক’আত আদায় করেছেন। (১০৮২)
(আঃপ্রঃ ১৫৪৩, ইঃফাঃ ১৫৪৯)

১৬৫৬

حَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ الْهَمْدَانِيِّ عَنْ حَارِثَةَ بْنِ وَهْبٍ الْخُزَاعِيِّ قَالَ صَلَّى بِنَا النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ أَكْثَرُ مَا كُنَّا قَطُّ وَآمَنُهُ بِمِنًى رَكْعَتَيْنِ
হারিসা ইব্‌নু ওয়াহব খুযা’য় (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের নিয়ে মিনাতে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করেছেন। এ সময় আমরা আগের তুলনায় সংখ্যায় বেশি ছিলাম এবং অতি নিরাপদে ছিলাম। (১০৮৩)
(আঃপ্রঃ ১৫৪৪, ইঃফাঃ ১৫৫০)

১৬৫৭

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ بْنُ عُقْبَةَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ أَبِي بَكْرٍ رَكْعَتَيْنِ وَمَعَ عُمَرَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ تَفَرَّقَتْ بِكُمْ الطُّرُقُ فَيَا لَيْتَ حَظِّي مِنْ أَرْبَعٍ رَكْعَتَانِ مُتَقَبَّلَتَانِ
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি (মিনায়) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে দু’ রাক’আত সালাত আদায় করেছি। আবূ বকর এর সাথে দু’ রাক’আত এবং ‘উমর-এর সাথেও দু’ রাক’আত আদায় করেছি। এরপর তোমাদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে [অর্থাৎ ‘উসমান (রাঃ) -এর সময় হতে চার রাক’আত সালাত আদায় করা শুরু হয়েছে] আহা! যদি চার রাক’আতের পরিবর্তে মকবূল দু’ রাক’আতই আমার ভাগ্যে জুটত! (১০৮৪)
(আঃপ্রঃ ১৫৪৫, ইঃফাঃ ১৫৫১)

২৫/৮৫. অধ্যায়ঃ

‘আরাফার দিবসে সওম।

১৬৫৮

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ الزُّهْرِيِّ حَدَّثَنَا سَالِمٌ قَالَ سَمِعْتُ عُمَيْرًا مَوْلَى أُمِّ الْفَضْلِ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ شَكَّ النَّاسُ يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَبَعَثْتُ إِلَى النَّبِيِّ بِشَرَابٍ فَشَرِبَهُ
উম্মু ফাযল (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ‘আরাফার দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সওমের ব্যাপারে লোকজন সন্দেহ করতে লাগলেন। তাই, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শরবত পাঠিয়ে দিলাম। তিনি তা পান করলেন।
(১৬৬১, ১৯৮৮, ৫২০৪, ৫২১৮, ৫২৩৬, মুসলিম ১৩/১৮, হাঃ ১১২৩, আহমাদ ২৬৯৪৬) (আঃপ্রঃ ১৫৪৬, ইঃফাঃ ১৫৫২)

২৫/৮৬. অধ্যায়ঃ

সকালে মিনা হতে ‘আরাফা যাওয়ার সময় তালবিয়া ও তাকবীর পাঠ করা।

১৬৫৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ الثَّقَفِيِّ أَنَّهُ سَأَلَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ وَهُمَا غَادِيَانِ مِنْ مِنًى إِلَى عَرَفَةَ كَيْفَ كُنْتُمْ تَصْنَعُونَ فِي هَذَا الْيَوْمِ مَعَ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُهِلُّ مِنَّا الْمُهِلُّ فَلاَ يُنْكِرُ عَلَيْهِ وَيُكَبِّرُ مِنَّا الْمُكَبِّرُ فَلاَ يُنْكِرُ عَلَيْهِ
মুহাম্মদ ইব্‌নু আবূ বাকার সাকাফী (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলেন, তখন তাঁরা উভয়ে সকাল বেলায় মিনা হতে ‘আরাফার দিকে যাচ্ছিলেন, আপনারা এ দিনে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে থেকে কিরূপ করতেন? তিনি বললেন, আমাদের মধ্যে যারা তালবিয়া পড়তে চাইত তারা পড়ত, তাতে বাধা দেয়া হতো না এবং যারা তাকবীর পড়তে চাইত তারা তাকবীর পড়ত, এতেও বাধা দেওয়া হতো না। (৯৭০)
(আঃপ্রঃ ১৫৪৭, ইঃফাঃ ১৫৫৩)

২৫/৮৭. অধ্যায়ঃ

‘আরাফার দিনে দুপুরে অবস্থান স্থলে গমন করা।

১৬৬০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمٍ قَالَ كَتَبَ عَبْدُ الْمَلِكِ إِلَى الْحَجَّاجِ أَنْ لاَ يُخَالِفَ ابْنَ عُمَرَ فِي الْحَجِّ فَجَاءَ ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا مَعَهُ يَوْمَ عَرَفَةَ حِينَ زَالَتْ الشَّمْسُ فَصَاحَ عِنْدَ سُرَادِقِ الْحَجَّاجِ فَخَرَجَ وَعَلَيْهِ مِلْحَفَةٌ مُعَصْفَرَةٌ فَقَالَ مَا لَكَ يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمٰنِ فَقَالَ الرَّوَاحَ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ السُّنَّةَ قَالَ هَذِهِ السَّاعَةَ قَالَ نَعَمْ قَالَ فَأَنْظِرْنِي حَتَّى أُفِيضَ عَلَى رَأْسِي ثُمَّ أَخْرُجُ فَنَزَلَ حَتَّى خَرَجَ الْحَجَّاجُ فَسَارَ بَيْنِي وَبَيْنَ أَبِي فَقُلْتُ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ السُّنَّةَ فَاقْصُرْ الْخُطْبَةَ وَعَجِّلْ الْوُقُوفَ فَجَعَلَ يَنْظُرُ إِلَى عَبْدِ اللهِ فَلَمَّا رَأَى ذَلِكَ عَبْدُ اللهِ قَالَ صَدَقَ
সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, (খলিফা) ‘আবদুল মালিক (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজের নিকট লিখে পাঠালেন যে, হজ্জের ব্যাপারে ইব্‌নু ‘উমর-এর বিরোধিতা করবে না। ‘আরাফার দিনে সূর্য ঢলে যাবার পর ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) হাজ্জাজের তাঁবুর কাছে গিয়ে উচ্চঃস্বরে ডাকলেন। আমি তখন তাঁর (ইব্‌নু ‘উমারের) সাথেই ছিলাম, হাজ্জাজ হলুদ রঙের চাদর পরিহিত অবস্থায় বেরিয়ে আসলেন এবং বললেন, কী ব্যাপার, হে আবূ ‘আবদুর রহমান? ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) বললেন, যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চাও তা হলে চল। হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করলেন, এ মুহূর্তেই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাজ্জাজ বললেন, সামান্য অবকাশ দিন, মাথায় পানি ঢেলে বের হয়ে আসি। তখন তিনি তার সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর হাজ্জাজ চলতে লাগলেন, আমি ও আমার পিতার মাঝে তিনি চললেন, আমি তাকে বললাম, যদি আপনি সুন্নতের অনুসরণ করতে চান তা হলে খুতবা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। হাজ্জাজ ‘আবদুল্লাহর দিকে তাকাতে লাগলেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) যখন তাঁকে দেখলেন তখন বললেন, সে ঠিকই বলেছে।
(১৬৬২, ১৬৬৩) (আঃপ্রঃ ১৫৪৮, ইঃফাঃ ১৫৫৪)

২৫/৮৮. অধ্যায়ঃ

‘আরাফায় সওয়ারীর উপর অবস্থান করা।

১৬৬১

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ عَنْ مَالِكٍ عَنْ أَبِي النَّضْرِ عَنْ عُمَيْرٍ مَوْلَى عَبْدِ اللهِ بْنِ الْعَبَّاسِ عَنْ أُمِّ الْفَضْلِ بِنْتِ الْحَارِثِ أَنَّ نَاسًا اخْتَلَفُوا عِنْدَهَا يَوْمَ عَرَفَةَ فِي صَوْمِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ بَعْضُهُمْ هُوَ صَائِمٌ وَقَالَ بَعْضُهُمْ لَيْسَ بِصَائِمٍ فَأَرْسَلْتُ إِلَيْهِ بِقَدَحِ لَبَنٍ وَهُوَ وَاقِفٌ عَلَى بَعِيرِهِ فَشَرِبَهُ
উম্মু ফাযল বিনত হারিস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
লোকজন তাঁর সামনে ‘আরাফার দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সওম সম্পর্কে মতভেদ করছিলেন। কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম আবার কেউ বলছিলেন তিনি সায়িম নন। অতঃপর আমি তাঁর কাছে এক পিয়ালা দুধ পাঠিয়ে দিলাম, তিনি তখন উটের উপর উপবিষ্ট ছিলেন, তিনি তা পান করে নিলেন। (১৬৫৮)
(আঃপ্রঃ ১৫৪৯, ইঃফাঃ ১৫৫৫)

২৫/৮৯. অধ্যায়ঃ

‘আরাফায় দু’ সালাত একসঙ্গে আদায় করা।
ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) ইমামের সাথে সালাত আদায় করতে না পারলে উভয় সালাত একত্রে আদায় করতেন।

১৬৬২

وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي سَالِمٌ أَنَّ الْحَجَّاجَ بْنَ يُوسُفَ عَامَ نَزَلَ بِابْنِ الزُّبَيْرِ سَأَلَ عَبْدَ اللهِ كَيْفَ تَصْنَعُ فِي الْمَوْقِفِ يَوْمَ عَرَفَةَ فَقَالَ سَالِمٌ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ السُّنَّةَ فَهَجِّرْ بِالصَّلاَةِ يَوْمَ عَرَفَةَ فَقَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ صَدَقَ إِنَّهُمْ كَانُوا يَجْمَعُونَ بَيْنَ الظُّهْرِ وَالْعَصْرِ فِي السُّنَّةِ فَقُلْتُ لِسَالِمٍ أَفَعَلَ ذَلِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ سَالِمٌ وَهَلْ تَتَّبِعُونَ فِي ذَلِكَ إِلاَّ سُنَّتَهُ
সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
যে বছর হাজ্জাজ ইব্‌নু ইউসুফ ইব্‌নু যুবাইরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন, সে বছর তিনি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আরাফার দিনে উকূফের সময় আমরা কিরূপে কাজ করব? সালিম (রহঃ) বললেন, আপনি যদি সুন্নাতের অনুসরণ করতে চান তাহলে ‘আরাফার দিনে দুপুরে সালাত আদায় করবেন।। ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) বলেন, সালিম ঠিক বলেছে। সুন্নাত মুতাবিক সাহাবীগণ যুহর ও ‘আসর এক সাথেই আদায় করতেন। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি সালিমকে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-ও কি এরূপ করেছেন? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে তোমরা কি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত ব্যতীত অন্য কারো অনুসরণ করবে? (১৬৬০)
(আঃপ্রঃ অনুচ্ছেদ ৮৮, ইঃফাঃ পরিচ্ছেদ ১০৪৯)

২৫/৯০. অধ্যায়ঃ

‘আরাফার খুত্‌বা সংক্ষিপ্ত করা।

১৬৬৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عَبْدَ الْمَلِكِ بْنَ مَرْوَانَ كَتَبَ إِلَى الْحَجَّاجِ أَنْ يَأْتَمَّ بِعَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ فِي الْحَجِّ فَلَمَّا كَانَ يَوْمُ عَرَفَةَ جَاءَ ابْنُ عُمَرَ وَأَنَا مَعَهُ حِينَ زَاغَتْ الشَّمْسُ أَوْ زَالَتْ فَصَاحَ عِنْدَ فُسْطَاطِهِ أَيْنَ هَذَا فَخَرَجَ إِلَيْهِ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ الرَّوَاحَ فَقَالَ الآنَ قَالَ نَعَمْ قَالَ أَنْظِرْنِي أُفِيضُ عَلَيَّ مَاءً فَنَزَلَ ابْنُ عُمَرَ حَتَّى خَرَجَ فَسَارَ بَيْنِي وَبَيْنَ أَبِي فَقُلْتُ إِنْ كُنْتَ تُرِيدُ أَنْ تُصِيبَ السُّنَّةَ الْيَوْمَ فَاقْصُرْ الْخُطْبَةَ وَعَجِّلْ الْوُقُوفَ فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ صَدَقَ
সালিম ইব্‌নু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
(খলিফা) ‘আবদুল মালিক ইব্‌নু মারওয়ান (মক্কার গভর্নর) হাজ্জাজকে লিখে পাঠালেন, তিনি যেন হজ্জের ব্যাপারে ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমর(রাঃ) -কে অনুসরণ করেন। যখন ‘আরাফার দিন হল, তখন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর ইব্‌নু ‘উমর (রহঃ) আসলেন এবং আমিও তাঁর সঙ্গে ছিলাম। তিনি তাঁর তাঁবুর কাছে এসে উচ্চঃস্বরে ডাকলেন ও কোথায়? হাজ্জাজ বেরিয়ে আসলেন। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) বললেন, চল। হাজ্জাজ বললেন, এখনই? তিনি বললেন, হ্যাঁ। হাজ্জাজ বললেন, আমাকে একটু অবকাশ দিন, আমি গায়ে একটু পানি ঢেলে নিই। তখন ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) তাঁর সওয়ারী হতে নেমে পড়লেন। অবশেষে হাজ্জাজ বেরিয়ে এলেন। এরপর তিনি আমার ও আমার পিতার মাঝে চলতে লাগলেন। আমি বললাম, আজ আপনি যদি সঠিকভাবে সুন্নাত মুতাবিক কাজ করতে চান তাহলে খুতবা সংক্ষিপ্ত করবেন এবং উকূফে দ্রুত করবেন। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) বললেন, সে (সালিম) ঠিকই বলেছে। (১৬৬০)
(আঃপ্রঃ ১৫৫০, ইঃফাঃ ১৫৫৬)

২৫/৯১. অধ্যায়ঃ

‘আরাফায় অবস্থান করা।

১৬৬৪

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَمْرٌو حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ أَبِيهِ كُنْتُ أَطْلُبُ بَعِيرًا لِي ح وحَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ عَنْ عَمْرٍو سَمِعَ مُحَمَّدَ بْنَ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ قَالَ أَضْلَلْتُ بَعِيرًا لِي فَذَهَبْتُ أَطْلُبُهُ يَوْمَ عَرَفَةَ فَرَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم وَاقِفًا بِعَرَفَةَ فَقُلْتُ هَذَا وَاللهِ مِنْ الْحُمْسِ فَمَا شَأْنُهُ هَا هُنَا
জুবাইর ইব্‌নু মুত’য়িম (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি আমার একটি উট হারিয়ে ‘আরাফার দিনে তা তালাশ করতে লাগলাম। তখন আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে ‘আরাফায় উকূফ করতে দেখলাম এবং বললাম, আল্লাহর কসম! তিনি তো কুরায়শ বংশীয় [৬০]। এখানে তিনি কী করছেন?
(মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২২০) (আঃপ্রঃ ১৫৫১, ইঃফাঃ ১৫৫৭)
 [৬০] মক্কার অধিবাসী কতক হঠকারী উদ্ধত গোত্র অন্যান্য লোকদের সঙ্গে আরাফাতে যেত না এবং মুজদালিফায় সংক্ষিপ্ত অবস্থান করত। তাদের ঔদ্ধত্যের কারণে তাদেরকে তিরস্কার করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে অন্যান্য হাজীদের ন্যায় তাদেরকেও হজ্জের সকল নিয়ম পালন করতে হবে। ইসলাম হচ্ছে সমতার ধর্ম। জাহিলী যুগের প্রথা অনুযায়ী যুবাইর ইব্‌নু মুত’য়িম (রাঃ) -এর ধারণা ছিল কুরাইশদের আরাফাতে আসার প্রয়োজন নেই। তাই তিনি বলে উঠেন, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো কুরাইশ; তিনি কেন আরাফাতে এসেছেন। আল্লাহর নির্দেশে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ জাহিলী নিয়ম ভেঙ্গে ফেলেন এবং আরাফাতে অবস্থানসহ হজ্জের যাবতীয় নিয়মই সকলের জন্য সমানভাবে আবশ্যকীয় করেন। (সূরা আল-বাক্বারাহ ১৯৮-১৯৯)

১৬৬৫

حَدَّثَنَا فَرْوَةُ بْنُ أَبِي الْمَغْرَاءِ حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ قَالَ عُرْوَةُ كَانَ النَّاسُ يَطُوفُونَ فِي الْجَاهِلِيَّةِ عُرَاةً إِلاَّ الْحُمْسَ وَالْحُمْسُ قُرَيْشٌ وَمَا وَلَدَتْ وَكَانَتْ الْحُمْسُ يَحْتَسِبُونَ عَلَى النَّاسِ يُعْطِي الرَّجُلُ الرَّجُلَ الثِّيَابَ يَطُوفُ فِيهَا وَتُعْطِي الْمَرْأَةُ الْمَرْأَةَ الثِّيَابَ تَطُوفُ فِيهَا فَمَنْ لَمْ يُعْطِهِ الْحُمْسُ طَافَ بِالْبَيْتِ عُرْيَانًا وَكَانَ يُفِيضُ جَمَاعَةُ النَّاسِ مِنْ عَرَفَاتٍ وَيُفِيضُ الْحُمْسُ مِنْ جَمْعٍ قَالَ وَأَخْبَرَنِي أَبِي عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ نَزَلَتْ فِي الْحُمْسِ {ثُمَّ أَفِيضُوا مِنْ حَيْثُ أَفَاضَ النَّاسُ} قَالَ كَانُوا يُفِيضُونَ مِنْ جَمْعٍ فَدُفِعُوا إِلَى عَرَفَاتٍ
‘উরওইয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
জাহিলী যুগে হুমস ব্যতীত অন্য লোকেরা উলঙ্গ অবস্থায় (বাইতুল্লাহ) তাওয়াফ করত। আর হুমস হলো কুরায়শ এবং তাদের ঔরসজাত সন্তান-সন্ততি। হুমসরা লোকেদের সেবা করে সওয়াবের আশায় পুরুষ পুরুষকে কাপড় দিত এবং সে তা পরে তাওয়াফ করত। আর স্ত্রীলোক স্ত্রীলোককে কাপড় দিত এবং এ কাপড়ে সে তাওয়াফ করত। হুমসরা যাকে কাপড় না দিত সে উলঙ্গ অবস্থায় বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করত। সব লোক ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করত আর হুমসরা প্রত্যাবর্তন করত মুযদালিফা হতে। রাবী হিশাম (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আমার নিকট ‘আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, এই আয়াতটি হুমস সম্পর্কে নাযিল হয়েছেঃ (আরবি) (এরপর যেখান হতে অন্য লোকেরা প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান হতে প্রত্যাবর্তন করবে) রাবী বলেন, তারা মুযদালিফা হতে প্রত্যাবর্তন করত, এতে তাদের ‘আরাফাহ পর্যন্ত যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হল।
(৪৫২০, মুসলিম ১৫/২১, হাঃ ১২১৯) (আঃপ্রঃ ১৫৫২, ইঃফাঃ ১৫৫৮)

২৫/৯২. অধ্যায়ঃ

‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তনে চলার গতি।

১৬৬৬

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ أَنَّهُ قَالَ سُئِلَ أُسَامَةُ وَأَنَا جَالِسٌ كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَسِيرُ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ حِينَ دَفَعَ قَالَ كَانَ يَسِيرُ الْعَنَقَ فَإِذَا وَجَدَ فَجْوَةً نَصَّ قَالَ هِشَامٌ وَالنَّصُّ فَوْقَ الْعَنَقِ قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ فَجْوَةٌ مُتَّسَعٌ وَالْجَمِيعُ فَجَوَاتٌ وَفِجَاءٌ وَكَذَلِكَ رَكْوَةٌ وَرِكَاءٌ مَنَاصٌ لَيْسَ حِينَ فِرَارٍ
‘উরওয়াহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, উসামাহ (রাঃ) -কে জিজ্ঞেস করা হলো, তখন আমি সেখানে উপবিষ্ট ছিলাম, বিদায় হজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ‘আরাফা হতে ফিরতেন তখন তাঁর চলার গতি কেমন ছিল? তিনি বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দ্রুতগতিতে চলতেন এবং যখন পথ মুক্ত পেতেন তখন তার চাইতেও দ্রুতগতিতে চলতেন।
রাবী হিশাম (রহঃ) বলেন, (আরবি) হতেও দ্রুতগতির ভ্রমণকে (আরবি) বলা হয়। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, (আরবি) অর্থ খোলা পথ, এর বহুবচন হল (আরবি) ও (আরবি) শব্দদ্বয়ও অনুরূপ। (কুরআনে বর্ণিত) (আরবি) এর অর্থ হল, “পরিত্রানের কোন উপায়-অবকাশ নেই। (সদঃ ৩০)
(২৯৯৯, ৪৪১৩, মুসলিম ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৬) (আঃপ্রঃ ১৫৫৩, ইঃফাঃ ১৫৫৯)

২৫/৯৩. অধ্যায়ঃ

‘আরাফা ও মুযদালিফার মধ্যবর্তী স্থানে অবতরণ করা।

১৬৬৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم حَيْثُ أَفَاضَ مِنْ عَرَفَةَ مَالَ إِلَى الشِّعْبِ فَقَضَى حَاجَتَهُ فَتَوَضَّأَ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَتُصَلِّي فَقَالَ الصَّلاَةُ أَمَامَكَ
উসামাহ ইব্‌নু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন ‘আরাফা হতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন তখন তিনি একটি গিরিপথের দিকে এগিয়ে গিয়ে প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়ে অযূ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি সালাত আদায় করবেন? তিনি বললেনঃ সালাত তোমার আরো সামনে। (১৩৯)
(আঃপ্রঃ ১৫৫৪, ইঃফাঃ ১৫৬০)

১৬৬৮

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ عَنْ نَافِعٍ قَالَ كَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ يَجْمَعُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ غَيْرَ أَنَّهُ يَمُرُّ بِالشِّعْبِ الَّذِي أَخَذَهُ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَيَدْخُلُ فَيَنْتَفِضُ وَيَتَوَضَّأُ وَلاَ يُصَلِّي حَتَّى يُصَلِّيَ بِجَمْعٍ
নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশার সালাত এক সাথে আদায় করতেন। এছাড়া তিনি সেই গিরিপথ দিয়ে অতিক্রম করতেন যে দিকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গিয়েছিলেন। আর সেখানে প্রবেশ করে তিনি ইসতিনজা করতেন এবং অযূ করতেন কিন্তু সালাত আদায় করতেন না। অবশেষে তিনি মুযদালিফায় পৌঁছে সালাত আদায় করতেন। (১৬৬৮, ১০৯১)
(আঃপ্রঃ ১৫৫৫, ইঃফাঃ ১৫৬১)

১৬৬৯

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ أَبِي حَرْمَلَةَ عَنْ كُرَيْبٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ قَالَ رَدِفْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَرَفَاتٍ فَلَمَّا بَلَغَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم الشِّعْبَ الأَيْسَرَ الَّذِي دُونَ الْمُزْدَلِفَةِ أَنَاخَ فَبَالَ ثُمَّ جَاءَ فَصَبَبْتُ عَلَيْهِ الْوَضُوءَ فَتَوَضَّأَ وُضُوءًا خَفِيفًا فَقُلْتُ الصَّلاَةُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ الصَّلاَةُ أَمَامَكَ فَرَكِبَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم حَتَّى أَتَى الْمُزْدَلِفَةَ فَصَلَّى ثُمَّ رَدِفَ الْفَضْلُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم غَدَاةَ جَمْعٍ
ঊসামাহ ইব্‌নু যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আরাফা হতে সওয়ারীতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পেছনে আরোহণ করলাম। মুযদালিফার নিকটবর্তী বামপার্শ্বের গিরিপথে পৌঁছলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর উটটি বসালেন। এরপর পেশাব করে আসলেন। আমি তাঁকে অযূর পানি ঢেলে দিলাম। আর তিনি হালকাভাবে অযূ করে নিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত? তিনি বললেনঃ সালাত আরো সামনে। এ কথা বলে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওয়ারীতে আরোহণ করে মুযদালিফা আসলেন এবং সালাত আদায় করলেন। মুযদালিফার ভোরে ফযল [ইব্‌নু আব্বাস (রাঃ) ] আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিছনে আরোহণ করলেন। (১৩৯)
(আঃপ্রঃ ১৫৫৬, ইঃফাঃ ১৫৬২)

১৬৭০

. قَالَ كُرَيْبٌ فَأَخْبَرَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبَّاسٍ عَنْ الْفَضْلِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم لَمْ يَزَلْ يُلَبِّي حَتَّى بَلَغَ الْجَمْرَةَ
কুরাইব (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) ফযল (রাঃ) হতে আমার নিকট বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামরায় পৌঁছা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতেন।
(১৫৪৪, মুসলিম ১৫/৪৫, হাঃ ১৬৮০, ১৬৮১, আহমাদ ২১৮০১) (আঃপ্রঃ ১৫৫৬, ইঃফাঃ ১৫৬২ শেষাংশে)

২৫/৯৪. অধ্যায়ঃ

(‘আরাফাহ হতে) ফিরে আসার সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ধীরে চলার আদেশ দিতেন এবং তাদের প্রতি চাবুকের সাহায্যে ইঙ্গিত করতেন।

১৬৭১

حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي مَرْيَمَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سُوَيْدٍ حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ أَبِي عَمْرٍو مَوْلَى الْمُطَّلِبِ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ مَوْلَى وَالِبَةَ الْكُوفِيُّ حَدَّثَنِي ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَّهُ دَفَعَ مَعَ النَّبِيِّ يَوْمَ عَرَفَةَ فَسَمِعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَرَاءَهُ زَجْرًا شَدِيدًا وَضَرْبًا وَصَوْتًا لِلإِبِلِ فَأَشَارَ بِسَوْطِهِ إِلَيْهِمْ وَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ عَلَيْكُمْ بِالسَّكِينَةِ فَإِنَّ الْبِرَّ لَيْسَ بِالإِيضَاعِ أَوْضَعُوا أَسْرَعُوا {خِلاَلَكُمْ} مِنْ التَّخَلُّلِ بَيْنَكُمْ {وَفَجَّرْنَا خِلاَلَهُمَا} بَيْنَهُمَا
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি ‘আরাফার দিনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে ফিরে আসছিলেন। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পিছনের দিকে খুব হ্যাঁকডাক ও উট পিটানোর শব্দ শুনতে পেয়ে তাদের চাবুক দিয়ে ইঙ্গিত করে বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা ধীরস্থিরতা অবলম্বন কর। কেননা, উট দ্রুত হাকানোর মধ্যে কোন কল্যাণ নেই।
(আরবি) অর্থাৎ তারা দ্রুত চলত। (আরবি) তোমাদের ফাঁকে ঢুকে, (আরবি) উভয়টির মধ্যে প্রবাহিত করেছি।
(আঃপ্রঃ ১৫৫৭, ইঃফাঃ ১৫৬৩)

২৫/৯৫. অধ্যায়ঃ

মুযদালিফায় দু‘ ওয়াক্ত সালাত এক সাথে আদায় করা।

১৬৭২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ كُرَيْبٍ عَنْ أُسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ أَنَّهُ سَمِعَهُ يَقُولُ دَفَعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَرَفَةَ فَنَزَلَ الشِّعْبَ فَبَالَ ثُمَّ تَوَضَّأَ وَلَمْ يُسْبِغْ الْوُضُوءَ فَقُلْتُ لَهُ الصَّلاَةُ فَقَالَ الصَّلاَةُ أَمَامَكَ فَجَاءَ الْمُزْدَلِفَةَ فَتَوَضَّأَ فَأَسْبَغَ ثُمَّ أُقِيمَتْ الصَّلاَةُ فَصَلَّى الْمَغْرِبَ ثُمَّ أَنَاخَ كُلُّ إِنْسَانٍ بَعِيرَهُ فِي مَنْزِلِهِ ثُمَّ أُقِيمَتْ الصَّلاَةُ فَصَلَّى وَلَمْ يُصَلِّ بَيْنَهُمَا
উসামাহ ইব্‌নু যায়েদ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আরাফা হতে ফেরার সময় গিরিপথে অবতরণ করে পেশাব করলেন এবং অযূ করলেন। তবে পূর্ণাঙ্গ অযূ করলেন না। আমি তাঁকে বললাম, সালাত? তিনি বললেন, সালাত তো তোমার সামনে। অত:পর তিনি মুযদালিফায় এসে অযূ করলেন এবং পূর্ণাঙ্গ অযূ করলেন। অত:পর সালাতের ইক্বামাত হলে তিনি মাগরিবের সালাত আদায় করলেন। এরপর প্রত্যেকেই নিজ নিজ স্থানে উট দাঁড় করিয়ে রাখার পর সালাতের ইক্বামাত দেয়া হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। ‘ইশা ও মাগরিবের মধ্যে তিনি আর কোন সালাত আদায় করেননি। (১৩৯)
(আঃপ্রঃ ১৫৫৮, ইঃফাঃ ১৫৬৪)

২৫.৯৬. অধ্যায়ঃ

দু‘ ওয়াক্ত সালাত একসঙ্গে আদায় করা এবং দুয়ের মধ্যে কোন নফল সালাত আদায় না করা

১৬৭৩

حَدَّثَنَا آدَمُ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ جَمَعَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ بِجَمْعٍ كُلُّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا بِإِقَامَةٍ وَلَمْ يُسَبِّحْ بَيْنَهُمَا وَلاَ عَلَى إِثْرِ كُلِّ وَاحِدَةٍ مِنْهُمَا
ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুযদালিফায় মাগরিব ও ‘ইশা এক সাথে আদায় করেন। প্রত্যেকটির জন্য আলাদা ইক্বামাত দেয়া হয়। তবে উভয়ের মধ্যে বা পরে তিনি কোন নফল সালাত আদায় করেননি। (১০৯১)
(আঃপ্রঃ ১৫৫৯, ইঃফাঃ ১৫৬৫)

১৬৭৪

حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ بِلاَلٍ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَدِيُّ بْنُ ثَابِتٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ بْنُ يَزِيدَ الْخَطْمِيُّ قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم جَمَعَ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ بِالْمُزْدَلِفَةِ
আবূ আইয়ুব আনসারী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিদায় হজ্জের সময় মুযদালিফায় মাগরিব এবং ‘ইশা একত্রে আদায় করেছেন।

(৪৪১৪, মুসলিম ১৫/৪৭, হাঃ ১২৮৭, আহমাদ ২৩৬২১) (আঃপ্রঃ ১৫৬০, ইঃফাঃ ১৫৬৬)

২৫/৯৭. অধ্যায়ঃ

মাগরিব এবং ‘ইশা উভয় সালাতের জন্য আযান ও ইক্বামাত দেয়া

১৬৭৫

حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ يَزِيدَ يَقُولُ حَجَّ عَبْدُ اللهِ فَأَتَيْنَا الْمُزْدَلِفَةَ حِينَ الأَذَانِ بِالْعَتَمَةِ أَوْ قَرِيبًا مِنْ ذَلِكَ فَأَمَرَ رَجُلاً فَأَذَّنَ وَأَقَامَ ثُمَّ صَلَّى الْمَغْرِبَ وَصَلَّى بَعْدَهَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَا بِعَشَائِهِ فَتَعَشَّى ثُمَّ أَمَرَ أُرَى فَأَذَّنَ وَأَقَامَ قَالَ عَمْرٌو لاَ أَعْلَمُ الشَّكَّ إِلاَّ مِنْ زُهَيْرٍ ثُمَّ صَلَّى الْعِشَاءَ رَكْعَتَيْنِ فَلَمَّا طَلَعَ الْفَجْرُ قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ لاَ يُصَلِّي هَذِهِ السَّاعَةَ إِلاَّ هَذِهِ الصَّلاَةَ فِي هَذَا الْمَكَانِ مِنْ هَذَا الْيَوْمِ قَالَ عَبْدُ اللهِ هُمَا صَلاَتَانِ تُحَوَّلاَنِ عَنْ وَقْتِهِمَا صَلاَةُ الْمَغْرِبِ بَعْدَ مَا يَأْتِي النَّاسُ الْمُزْدَلِفَةَ وَالْفَجْرُ حِينَ يَبْزُغُ الْفَجْرُ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَفْعَلُهُ
‘আবদুর রাহমান ইব্‌নু ইয়াযিদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হজ্জ আদায় করলেন। তখন ‘ইশার আযানের সময় বা তার কাছাকাছি সময় আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে আদেশ দিলেন। সে আযান দিল এবং ইক্বামাত বলল। তিনি মাগরিব আদায় করলেন এবং এরপর আরো দু‘ রাক‘আত আদায় করলেন। অত:পর তিনি রাতের খাবার আনালেন এবং তা খেয়ে নিলেন। (রাবী বলেন) অত:পর তিনি একজনকে আদেশ দিলেন। আমার মনে হয়, লোকটি আযান দিল এবং ইক্বামাত বলল। ‘আমর (রহঃ) বলেন, আমার বিশ্বাস এ সন্দেহ যুহাইর (রহঃ) হতেই হয়েছে। অত:পর তিনি দু‘ রাক‘আত ‘ইশার সালাত আদায় করলেন। ফজর হওয়া মাত্রই তিনি বললেনঃ এ সময়, এ দিনে, এ স্থানে, এ সালাত ব্যতীত নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আর কোন সালাত আদায় করেননি। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, এ দু‘টি সালাত তাদের প্রচলিত ওয়াক্ত হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই লোকেরা মুযদালিফা পৌঁছার পর মাগরিব আদায় করেন এবং ফজরের সময় হওয়া মাত্র ফজরের সালাত আদায় করেন। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এরূপ করতে দেখেছি। (১৬৮২, ১৬৮৩)
(আঃপ্রঃ ১৫৬১, ইঃফাঃ ১৫৬৭)

২৫/৯৮. অধ্যায়ঃ

যারা পরিবারের দুর্বল লোকদের রাত্রে পূর্বে প্রেরণ করে মুযদালিফায় অবস্থান করে ও দু‘আ করে এবং পূর্বে প্রেরণ করবে চন্দ্র অস্তমিত হওয়ার পর।

১৬৭৬

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ يُونُسَ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ سَالِمٌ وَكَانَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ يُقَدِّمُ ضَعَفَةَ أَهْلِهِ فَيَقِفُونَ عِنْدَ الْمَشْعَرِ الْحَرَامِ بِالْمُزْدَلِفَةِ بِلَيْلٍ فَيَذْكُرُونَ اللهَ مَا بَدَا لَهُمْ ثُمَّ يَرْجِعُونَ قَبْلَ أَنْ يَقِفَ الإِمَامُ وَقَبْلَ أَنْ يَدْفَعَ فَمِنْهُمْ مَنْ يَقْدَمُ مِنًى لِصَلاَةِ الْفَجْرِ وَمِنْهُمْ مَنْ يَقْدَمُ بَعْدَ ذَلِكَ فَإِذَا قَدِمُوا رَمَوْا الْجَمْرَةَ وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يَقُولُ أَرْخَصَ فِي أُولَئِكَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم
সালিম (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) তাঁর পরিবারের দুর্বল লোকদের আগেই পাঠিয়ে দিয়ে রাতে মুযদালিফাতে মাশ‘আরে হারামের নিকট উকূফ করতেন এবং সাধ্যমত আল্লাহর যিকর করতেন। অতঃপর ইমাম(মুযদালিফায়) উকূফ করার ও রওয়ানা হওয়ার আগেই তাঁরা(মিনায়) ফিরে যেতেন। তাঁদের মধ্যে কেউ মিনাতে আগমন করতেন ফজরের সালাতের সময় আর কেউ এরপরে আসতেন, মিনাতে এসে তাঁরা কঙ্কর মারতেন। ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) বলতেন, তাদের জন্য রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কড়াকড়ি শিথিল করে সহজ করে দিয়েছেন।
(মুসলিম ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯৫) (আঃপ্রঃ ১৫৬২, ইঃফাঃ ১৫৬৮)

১৬৭৭

حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مِنْ جَمْعٍ بِلَيْلٍ
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে রাতে মুযদালিফা হতে পাঠিয়েছেন।
(১৬৭৮, ১৮৫৬, মুসলিম ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯৩, ১২৯৪, আহমাদ ২২০৪) (আঃপ্রঃ ১৫৬৩, ইঃফাঃ ১৫৬৯)

১৬৭৮

حَدَّثَنَا عَلِيٌّ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللهِ بْنُ أَبِي يَزِيدَ سَمِعَ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَنَا مِمَّنْ قَدَّمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ الْمُزْدَلِفَةِ فِي ضَعَفَةِ أَهْلِهِ
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুযদালিফার রাতে তাঁর পরিবারের যে সব লোককে এখানে পাঠিয়েছিলেন, আমি তাঁদের একজন। (১৬৭৭)
(আঃপ্রঃ ১৫৬৪, ইঃফাঃ ১৫৭০)

১৬৭৯

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللهِ مَوْلَى أَسْمَاءَ عَنْ أَسْمَاءَ أَنَّهَا نَزَلَتْ لَيْلَةَ جَمْعٍ عِنْدَ الْمُزْدَلِفَةِ فَقَامَتْ تُصَلِّي فَصَلَّتْ سَاعَةً ثُمَّ قَالَتْ يَا بُنَيَّ هَلْ غَابَ الْقَمَرُ قُلْتُ لاَ فَصَلَّتْ سَاعَةً ثُمَّ قَالَتْ يَا بُنَيَّ هَلْ غَابَ الْقَمَرُ قُلْت نَعَمْ قَالَتْ فَارْتَحِلُوا فَارْتَحَلْنَا وَمَضَيْنَا حَتَّى رَمَتْ الْجَمْرَةَ ثُمَّ رَجَعَتْ فَصَلَّتْ الصُّبْحَ فِي مَنْزِلِهَا فَقُلْتُ لَهَا يَا هَنْتَاهُ مَا أُرَانَا إِلاَّ قَدْ غَلَّسْنَا قَالَتْ يَا بُنَيَّ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم أَذِنَ لِلظُّعُنِ
আসমা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি মুযদালিফার রাতে মুযদালিফার কাছাকাছি স্থানে পৌঁছে সালাতে দাঁড়ালেন এবং কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অত:পর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি অস্তমিত হয়েছে? আমি বললাম, না। তিনি আরো কিছুক্ষণ সালাত আদায় করলেন। অত:পর বললেন, হে বৎস! চাঁদ কি ডুবেছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, চল। আমরা রওয়ানা হলাম এবং চললাম। পরিশেষে তিনি জামরায় কঙ্কর মারলেন এবং ফিরে এসে নিজের অবস্থানের জায়গায় ফজরের সালাত আদায় করলেন। অত:পর আমি তাঁকে বললাম, হে মহিলা! আমার মনে হয়, আমরা বেশি অন্ধকার থাকতেই আদায় করে ফেলেছি। তিনি বললেন, বৎস! আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মহিলাদের জন্য এর অনুমতি দিয়েছেন।
(মুসলিম ১৫/৪৯, হাঃ ১২৯১) (আঃপ্রঃ ১৫৬৫, ইঃফাঃ ১৫৭১)

১৬৮০

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ كَثِيرٍ أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمٰنِ هُوَ ابْنُ الْقَاسِمِ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ اسْتَأْذَنَتْ سَوْدَةُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لَيْلَةَ جَمْعٍ وَكَانَتْ ثَقِيلَةً ثَبْطَةً فَأَذِنَ لَهَا
‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সাওদা (রাঃ) মুযদালিফার রাতে (মিনা যাওয়ার জন্য) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চাইলেন, তিনি তাঁকে অনুমতি দেন। সাওদা (রাঃ) ছিলেন ভারী ও ধীরগতিসম্পন্না নারী।

(১৬৮১, মুসলিম ১৫/৪৮, হাঃ ১২৯০) (আঃপ্রঃ ১৫৬৬, ইঃফাঃ ১৫৭২)

১৬৮১

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ الْقَاسِمِ بْنِ مُحَمَّدٍ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ نَزَلْنَا الْمُزْدَلِفَةَ فَاسْتَأْذَنَتْ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم سَوْدَةُ أَنْ تَدْفَعَ قَبْلَ حَطْمَةِ النَّاسِ وَكَانَتْ امْرَأَةً بَطِيئَةً فَأَذِنَ لَهَا فَدَفَعَتْ قَبْلَ حَطْمَةِ النَّاسِ وَأَقَمْنَا حَتَّى أَصْبَحْنَا نَحْنُ ثُمَّ دَفَعْنَا بِدَفْعِهِ فَلأَ×نْ أَكُونَ اسْتَأْذَنْتُ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم كَمَا اسْتَأْذَنَتْ سَوْدَةُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِنْ مَفْرُوحٍ بِهِ
‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমরা মুযদালিফায় অবতরণ করলাম। মানুষের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হওয়ার জন্য সাওদা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চাইলেন। আর তিনি ছিলেন ধীর গতি মহিলা। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে অনুমতি দিলেন। তাই তিনি লোকের ভিড়ের আগেই রওয়ানা হলেন। আর আমরা সকাল পর্যন্ত সেখানেই রয়ে গেলাম। এরপর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রওয়ানা হলেন, আমরা তাঁর সঙ্গে রওয়ানা হলাম। সওদার মত আমিও যদি আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট অনুমতি চেয়ে নিতাম তাহলে তা আমার জন্য অধিক সন্তুষ্টির ব্যাপার হতো। (১৬৮০)
(আঃপ্রঃ ১৫৬৭, ইঃফাঃ ১৫৭৩)

২৫/৯৯. অধ্যায়ঃ

মুযদালিফায় ফজরের সালাত কখন আদায় করবে?

১৬৮২

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ حَدَّثَنَا أَبِي حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ قَالَ حَدَّثَنِي عُمَارَةُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ عَنْ عَبْدِ اللهِ قَالَ مَا رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةً بِغَيْرِ مِيقَاتِهَا إِلاَّ صَلاَتَيْنِ جَمَعَ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ وَصَلَّى الْفَجْرَ قَبْلَ مِيقَاتِهَا
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দু‘টি সালাত ব্যতীত আর কোন সালাত তার নির্দিষ্ট সময় ব্যতীত আদায় করতে দেখিনি। তিনি মাগরিব ও ‘ইশা একত্রে আদায় করেছেন এবং ফজরের সালাত তার ওয়াক্তের আগে আদায় করেছেন।
(১৬৭৫, মুসলিম ১৫/৪৮, হাঃ ১২৮৯, আহমাদ ৩৬৩৭) (আঃপ্রঃ ১৫৬৮, ইঃফাঃ ১৫৭৪)

১৬৮৩

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ عَبْدِ اللهِ إِلَى مَكَّةَ ثُمَّ قَدِمْنَا جَمْعًا فَصَلَّى الصَّلاَتَيْنِ كُلَّ صَلاَةٍ وَحْدَهَا بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ وَالْعَشَاءُ بَيْنَهُمَا ثُمَّ صَلَّى الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ قَائِلٌ يَقُولُ طَلَعَ الْفَجْرُ وَقَائِلٌ يَقُولُ لَمْ يَطْلُعْ الْفَجْرُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ حُوِّلَتَا عَنْ وَقْتِهِمَا فِي هَذَا الْمَكَانِ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ فَلاَ يَقْدَمُ النَّاسُ جَمْعًا حَتَّى يُعْتِمُوا وَصَلاَةَ الْفَجْرِ هَذِهِ السَّاعَةَ ثُمَّ وَقَفَ حَتَّى أَسْفَرَ ثُمَّ قَالَ لَوْ أَنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَفَاضَ الآنَ أَصَابَ السُّنَّةَ فَمَا أَدْرِي أَقَوْلُهُ كَانَ أَسْرَعَ أَمْ دَفْعُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزَلْ يُلَبِّي حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ يَوْمَ النَّحْرِ
‘আব্দুর রাহমান ইব্‌নু ইয়াযীদ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) এর সঙ্গে মক্কা রওয়ানা হলাম। এরপর আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। তখন তিনি পৃথক পৃথক আযান ও ইক্বামতের সাথে উভয় সালাত (মাগরিব ও ‘ইশা) আদায় করলেন এবং এ দু‘ সালাতের মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিলেন। অত:পর ফজর হতেই তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। কেউ কেউ বলছিল যে, ফজরের সময় হয়ে গেছে, আবার কেউ বলছিল যে, এখনো ফজরের সময় আসেনি। এরপর ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু মাস‘ঊদ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, এ দু‘ সালাত অর্থাৎ মাগরিব ও ‘ইশা এ স্থানে তাদের নিজ সময় হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই ‘ইশার ওয়াক্তের আগে কেউ যেন মুযদালিফায় না আসে। আর ফজরের সালাত এই মুহূর্তে। এরপর তিনি ফর্সা হওয়া পর্যন্ত সেখানে উকূফ করেন। এরপর বললেন, আমীরুল মুমিনীন যদি এখন রওয়ানা হন তাহলে তিনি সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলেন। (রাবী বলেন) আমার জানা নেই, তাঁর কথা দ্রুত ছিল, না ‘উসমান (রাঃ) -এর রওয়ানা হওয়াটা। এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন, কুরবানীর দিন জামরায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।
(মুসলিম ১৫/৪৮, হাঃ ১২৮৯, আহমাদ ৩৬৩৭) (আঃপ্রঃ ১৫৬৯, ইঃফাঃ ১৫৭৫)

২৫/১০০. অধ্যায়ঃ

মুযদালিফা থেকে কখন যাত্রা করবে?

১৬৮৪

حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ مَيْمُونٍ يَقُولُ شَهِدْتُ عُمَرَ صَلَّى بِجَمْعٍ الصُّبْحَ ثُمَّ وَقَفَ فَقَالَ إِنَّ الْمُشْرِكِينَ كَانُوا لاَ يُفِيضُونَ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ وَيَقُولُونَ أَشْرِقْ ثَبِيرُ وَأَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم خَالَفَهُمْ ثُمَّ أَفَاضَ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ
‘আমর ইব্‌নু মায়মূন (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি, ‘উমর (রাঃ) -এর সাথে ছিলাম। তিনি মুযদালিফাতে ফজরের সালাত আদায় করে (মাশ‘আরে হারামে) উকূফ করলেন এবং তিনি বললেন, মুশরিকরা সূর্য না উঠা পর্যন্ত রওয়ানা হত না। তারা বলত, হে সাবীর! আলোকিত হও। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বিপরীত করলেন এবং তিনি সূর্য উঠার আগেই রওয়ানা হলেন। (৩৮৩৮)
(আঃপ্রঃ ১৫৭০, ইঃফাঃ ১৫৭৬)

২৫/১০১. অধ্যায়ঃ

কুরবানীর দিবসে সকালে জামরায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপের সময় তাকবীর ও তালবিয়া পাঠ করা এবং চলার পথে কাউকে সওয়ারীতে পেছনে বসানো

১৬৮৫

حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍ أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَرْدَفَ الْفَضْلَ فَأَخْبَرَ الْفَضْلُ أَنَّهُ لَمْ يَزَلْ يُلَبِّي حَتَّى رَمَى الْجَمْرَةَ
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাযল (রাঃ) -কে তাঁর সওয়ারীর পেছনে বসিয়েছিলেন। সেই ফাযল (রাঃ) বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামরায় পৌঁছে কঙ্কর নিক্ষেপ না করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করেছিলেন। (১৫৪৪)
(আঃপ্রঃ ১৫৭১, ইঃফাঃ ১৫৭৭)

১৬৮৬

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ يُونُسَ الأَيْلِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ كَانَ رِدْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَرَفَةَ إِلَى الْمُزْدَلِفَةِ ثُمَّ أَرْدَفَ الْفَضْلَ مِنْ الْمُزْدَلِفَةِ إِلَى مِنًى قَالَ فَكِلاَهُمَا قَالاَ لَمْ يَزَلْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُلَبِّي حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আরাফা হতে মুযদালিফা আসার পথে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সওয়ারীর পেছনে উসামাহ (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনার পথে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাযলকে সওয়ারীর পেছনে বসালেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা উভয়েই বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামারায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর না মারা পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (১৫৪৪)
(আঃপ্রঃ ১৫৭২, ইঃফাঃ ১৫৭৮)

১৬৮৭

حَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ حَدَّثَنَا أَبِي عَنْ يُونُسَ الأَيْلِيِّ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُبَيْدِ اللهِ بْنِ عَبْدِ اللهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ كَانَ رِدْفَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم مِنْ عَرَفَةَ إِلَى الْمُزْدَلِفَةِ ثُمَّ أَرْدَفَ الْفَضْلَ مِنْ الْمُزْدَلِفَةِ إِلَى مِنًى قَالَ فَكِلاَهُمَا قَالاَ لَمْ يَزَلْ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُلَبِّي حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ
ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
‘আরাফা হতে মুযদালিফা আসার পথে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সওয়ারীর পেছনে উসামাহ (রাঃ) উপবিষ্ট ছিলেন। এরপর মুযদালিফা হতে মিনার পথে তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাযলকে সওয়ারীর পেছনে বসালেন। ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা উভয়েই বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জামারায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর না মারা পর্যন্ত অনবরত তালবিয়া পাঠ করছিলেন। (১৫৪৪)
(আঃপ্রঃ ১৫৭২, ইঃফাঃ ১৫৭৮)

২৫/১০২. অধ্যায়ঃ

“আর তোমাদের মধ্যে যারা হজ্জ ও ‘উমরাহ একত্রে একই সঙ্গে পালন করতে চাও, তাহলে যা কিছু সহজলভ্য, তা দিয়ে কুরবানী করাই তার উপর কর্তব্য। বস্তুত যারা কুরবানীর পশু পাবে না, তারা হজ্জের দিনগুলোর মধ্যে তিনটি সওম পালন করবে এবং সাতটি পালন করবে ফিরে যাবার পর। এভাবে দশটি সিয়াম পূর্ণ হয়ে যাবে। এ নির্দেশটি তাদের জন্য যাদের পরিবার-পরিজন মাসজিদুল হারামের আশেপাশে বসবাস করে না।” (আল-বাকারা : ১৯৬)

১৬৮৮

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ أَخْبَرَنَا النَّضْرُ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ قَالَ سَأَلْتُ ابْنَ عَبَّاسٍعَنْ الْمُتْعَةِ فَأَمَرَنِي بِهَا وَسَأَلْتُهُ عَنْ الْهَدْيِ فَقَالَ فِيهَا جَزُورٌ أَوْ بَقَرَةٌ أَوْ شَاةٌ أَوْ شِرْكٌ فِي دَمٍ قَالَ وَكَأَنَّ نَاسًا كَرِهُوهَا فَنِمْتُ فَرَأَيْتُ فِي الْمَنَامِ كَأَنَّ إِنْسَانًا يُنَادِي حَجٌّ مَبْرُورٌ وَمُتْعَةٌ مُتَقَبَّلَةٌ فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَحَدَّثْتُهُ فَقَالَ اللهُ أَكْبَرُ سُنَّةُ أَبِي الْقَاسِمِ قَالَ وَقَالَ آدَمُ وَوَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ وَغُنْدَرٌ عَنْ شُعْبَةَ عُمْرَةٌ مُتَقَبَّلَةٌ وَحَجٌّ مَبْرُورٌ
আবূ জামরাহ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) -কে তামাত্তু‘ হজ্জ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে তা আদায় করতে আদেশ দিলেন। এরপর আমি তাঁকে কুরবানী সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, তামাত্তু‘র কুরবানী হলো একটি উট, গরু বা বকরী অথবা এক কুরবানীর পশুর মধ্যে শরীকানা এক অংশ। আবূ জামরাহ (রহঃ) বলেন, লোকেরা তামাত্তু‘ হজ্জকে যেন অপছন্দ করত। একদা আমি ঘুমালাম তখন দেখলাম, একটি লোক যেন (আমাকে লক্ষ্য করে) ঘোষণা দিচ্ছে, উত্তম হজ্জ এবং মাকবূল তামাত্তু‘। এরপর আমি ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) -এর কাছে এসে স্বপ্নের কথা বললাম। তিনি আল্লাহু আকবার উচ্চারণ করে বললেন, এটাই তো আবুল কাসিম (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত। আদম, ওয়াহাব ইব্‌নু জারীর এবং গুনদার (রহঃ) শু‘বাহ্ (রহঃ) হতে মাকবূল ‘উমরাহ এবং উত্তম হজ্জ বলে উল্লেখ করেছেন। (১৫৬৭)
(আঃপ্রঃ অনুচ্ছেদ ১০২, ইঃফাঃ ১৫৭৯)

২৫/১০৩. অধ্যায়ঃ

কুরবানীর উটের পিঠে আরোহণ করা। আল্লাহর বাণীঃ
“আর উটকে আমি করেছি তোমাদের জন্য আল্লাহর নিদর্শনাবলীর মধ্যে অন্যতম নিদর্শন, তোমাদের জন্য এতে রয়েছে মঙ্গল। সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো অবস্থায় তাদের উপর তোমরা আল্লাহর নাম উচ্চারণ কর; অত:পর যখন তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তোমরা তা থেকে খাও এবং সাহায্য কর ধৈর্য্যশীল অভাবগ্রস্থকে এবং যাচ্ঞাকারী অভাবগ্রস্থকেও। আমি এভাবে ঐ পশুগুলোকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছি যেন তোমরা শোকর কর। আর আল্লাহর কাছে পৌঁছে না এগুলোর গোশত এবং না এগুলোর রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌছে তোমাদের তাকওয়া। এভাবেই তিনি এগুলোকে তোমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন যেন তোমরা আল্লাহর মহত্ব ঘোষণা কর, যেহেতু তিনি তোমাদেরকে হিদায়াত দান করেছেন। সুতরাং আপনি সুসংবাদ দিন সৎকর্মশীলদেরকে।” (আল-হজ্জ : ৩৬-৩৭)
মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, কুরবানীর উটগুলোকে মোটা তাজা হওয়ার কারণে (আরবি) বলা হয়, (আরবি) অর্থাৎ যাচ্ঞাকারী, (আরবি) ঐ ব্যক্তি, যে ধনী হোক বা দরিদ্র, কুরবানীর উটের গোশত খাওয়ার জন্য ঘুরে বেড়ায়। (আরবি) অর্থাৎ কুরবানীর উটের প্রতি সম্মান করা এবং ভাল জানা। (আরবি) অর্থাৎ যালিমদের হতে মুক্ত হওয়া (আরবি) অর্থ যমীনে লুটিয়ে পড়ে। এ অর্থেই হল (আরবি) সূর্য অস্তমিত হয়েছে।

১৬৮৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ أَبِي الزِّنَادِ عَنْ الأَعْرَجِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً فَقَالَ ارْكَبْهَا فَقَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ فَقَالَ ارْكَبْهَا قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا وَيْلَكَ فِي الثَّالِثَةِ أَوْ فِي الثَّانِيَةِ
আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হ্যাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর। সে বলল, এ-তো কুরবানীর উট। আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এর পিঠে সওয়ার হয়ে চল। এবারও লোকটি বলল, এ-তো কুরবানীর উট। এরপরও আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এর পিঠে আরোহণ কর, তোমার সর্বনাশ! এ কথাটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বারে বলেছেন।
(১৭০৬, ২৭৫৫, ৬১৬০, মুসলিম ১৫/৬৫, হাঃ ১৩২২, আহমাদ ১০৩১৯) (আঃপ্রঃ ১৫৭৩, ইঃফাঃ ১৫৮০)

১৬৯০

حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ وَشُعْبَةُ قَالاَ حَدَّثَنَا قَتَادَةُ عَنْ أَنَسٍ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى رَجُلاً يَسُوقُ بَدَنَةً فَقَالَ ارْكَبْهَا قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا قَالَ إِنَّهَا بَدَنَةٌ قَالَ ارْكَبْهَا ثَلاَثًا
আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক ব্যক্তিকে কুরবানীর উট হ্যাঁকিয়ে নিতে দেখে বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। সে বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। লোকটি বলল, এ তো কুরবানীর উট। তিনি বললেন, এর উপর সওয়ার হয়ে যাও। এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।
(২৭৫৪, ৬১৫৯, মুসলিম ১৫/৬৫, হাঃ ১২২৩, আহমাদ ১২০৪০) (আঃপ্রঃ ১৫৭৪, ইঃফাঃ ১৫৮১)

২৫/১০৪. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি কুরবানীর জন্তু সাথে নিয়ে যায়।

১৬৯১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللهِ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ قَالَ تَمَتَّعَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ وَأَهْدَى فَسَاقَ مَعَهُ الْهَدْيَ مِنْ ذِي الْحُلَيْفَةِ وَبَدَأَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ ثُمَّ أَهَلَّ بِالْحَجِّ فَتَمَتَّعَ النَّاسُ مَعَ النَّبِيِّ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَكَانَ مِنْ النَّاسِ مَنْ أَهْدَى فَسَاقَ الْهَدْيَ وَمِنْهُمْ مَنْ لَمْ يُهْدِ فَلَمَّا قَدِمَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم مَكَّةَ قَالَ لِلنَّاسِ مَنْ كَانَ مِنْكُمْ أَهْدَى فَإِنَّهُ لاَ يَحِلُّ لِشَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى يَقْضِيَ حَجَّهُ وَمَنْ لَمْ يَكُنْ مِنْكُمْ أَهْدَى فَلْيَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَلْيُقَصِّرْ وَلْيَحْلِلْ ثُمَّ لِيُهِلَّ بِالْحَجِّ فَمَنْ لَمْ يَجِدْ هَدْيًا فَلْيَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ فِي الْحَجِّ وَسَبْعَةً إِذَا رَجَعَ إِلَى أَهْلِهِ فَطَافَ حِينَ قَدِمَ مَكَّةَ وَاسْتَلَمَ الرُّكْنَ أَوَّلَ شَيْءٍ ثُمَّ خَبَّ ثَلاَثَةَ أَطْوَافٍ وَمَشَى أَرْبَعًا فَرَكَعَ حِينَ قَضَى طَوَافَهُ بِالْبَيْتِ عِنْدَ الْمَقَامِ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ فَانْصَرَفَ فَأَتَى الصَّفَا فَطَافَ بِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ سَبْعَةَ أَطْوَافٍ ثُمَّ لَمْ يَحْلِلْ مِنْ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى قَضَى حَجَّهُ وَنَحَرَ هَدْيَهُ يَوْمَ النَّحْرِ وَأَفَاضَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ حَلَّ مِنْ كُلِّ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ وَفَعَلَ مِثْلَ مَا فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ أَهْدَى وَسَاقَ الْهَدْيَ مِنْ النَّاسِ
ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, বিদায় হজ্জের সময় আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজ্জ ও ‘উমরাহ একসাথে পালন করেছেন। তিনি হাদী পাঠান অর্থাৎ যুল-হুলাইফা হতে কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে নেন। অত:পর আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রথমে ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধেন, এরপর হজ্জের ইহ্‌রাম বাঁধেন। সাহাবীগণ তাঁর সঙ্গে ‘উমরাহ’র ও হজ্জের নিয়্যাতে তামাত্তু‘ করলেন। সাহাবীগণের কতেক হাদী সাথে নিয়ে চললেন, আর কেউ কেউ হাদী সাথে নেননি। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা পৌছে সাহাবীগণকে উদ্দেশ্য করে বললেনঃ তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে এসেছ, তাদের জন্য হজ্জ সমাপ্ত করা পর্যন্ত কোন নিষিদ্ধ জিনিস হালাল হবে না। আর তোমাদের মধ্যে যারা হাদী সাথে নিয়ে আসনি, তারা বাইতুল্লাহ এবং সাফা-মারওয়ার তাওয়াফ করে চুল কেটে হালাল হয়ে যাবে। এরপর হজ্জের ইহ্‌রাম বাঁধবে। তবে যারা কুরবানী করতে পারবে না তারা হজ্জের সময় তিনদিন এবং বাড়িতে ফিরে গিয়ে সাতদিন সওম পালন করবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মক্কা পৌঁছেই তাওয়াফ করলেন। প্রথমে হাজরে আসওয়অদ চুম্বন করলেন এবং তিন চক্কর রামল করে আর চার চক্কর স্বাভাবিকভাবে হেঁটে তাওয়াফ করলেন। বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সম্পন্ন করে তিনি মাকামে ইব্রাহীমের নিকট দু’রাক‘আত সালাত আদায় করলেন, সালাম ফিরিয়ে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাফায় আসলেন এবং সাফা-মারওয়ার মাঝে সাত চক্কর সা‘ঈ করলেন। হজ্জ সমাধান করা পর্যন্ত তিনি যা কিছু হারাম ছিল তা হতে হালাল হননি। তিনি কুরবানীর দিনে হাদী কুরবানী করলেন, সেখান হতে এসে তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ করলেন। অত:পর তাঁর উপর যা হারাম ছিল সে সব কিছু হতে তিনি হালাল হয়ে গেলেন। সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা হাদী সাথে নিয়ে এসেছিলেন তাঁরা সেরূপ করলেন, যেরূপ আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছিলেন।
(আঃপ্রঃ ১৫৭৫, ইঃফাঃ ১৫৮২)

১৬৯২

وَعَنْ عُرْوَةَ أَنَّ عَائِشَةَ أَخْبَرَتْهُ عَنْ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي تَمَتُّعِهِ بِالْعُمْرَةِ إِلَى الْحَجِّ فَتَمَتَّعَ النَّاسُ مَعَهُ بِمِثْلِ الَّذِي أَخْبَرَنِي سَالِمٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
‘উরওয়া (রহ.) ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হজ্জের সাথে ‘উমরাহ পালন করেন এবং তাঁর সঙ্গে সাহাবীগণও তামাত্তু’ করেন, যেমনি বর্ণনা করেছেন সালিম (রহঃ) ইব্‌ন ‘উমর (রাঃ) সূত্রে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে।
(মুসলিম ১৫/২৪, হাঃ ১২২৭, ১২২৮, আহমাদ ৬২৫৫) (আঃপ্রঃ নাই, ইঃফাঃ ১৫৮২ শেষাংশ)

২৫/১০৫. অধ্যায়ঃ

রাস্তা হতে কুরবানীর পশু ক্রয় করা।

১৬৯৩

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ عَنْ أَيُّوبَ عَنْ نَافِعٍ قَالَ قَالَ عَبْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ لأَبِيهِ أَقِمْ فَإِنِّي لاَ آمَنُهَا أَنْ سَتُصَدُّ عَنْ الْبَيْتِ قَالَ إِذًا أَفْعَلُ كَمَا فَعَلَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم وَقَدْ قَالَ اللَّهُ {لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللهِ أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ} فَأَنَا أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عَلَى نَفْسِي الْعُمْرَةَ فَأَهَلَّ بِالْعُمْرَةِ مِنْ الدَّارِ قَالَ ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِالْبَيْدَاءِ أَهَلَّ بِالْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ وَقَالَ مَا شَأْنُ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ إِلاَّ وَاحِدٌ ثُمَّ اشْتَرَى الْهَدْيَ مِنْ قُدَيْدٍ ثُمَّ قَدِمَ فَطَافَ لَهُمَا طَوَافًا وَاحِدًا فَلَمْ يَحِلَّ حَتَّى حَلَّ مِنْهُمَا جَمِيعًا
নাফি‘ (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) -এর পুত্র ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) তার পিতাকে বললেন, আপনি (এবার বাড়িতেই) অবস্থান করুন। কেননা, বাইতুল্লাহ হতে আপনার বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত নই। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বললেন, তাহলে আমি তাই করব যা আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) করেছিলেন। তিনি আরো বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহর রাসূলের মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য উত্তম আদর্শ” - (আহযাবঃ ২১)। সুতরাং আমি তোমাদের সাক্ষী করে বলছি, (এবার) ‘উমরাহ আদায় করা আমি আমার উপর ওয়াজিব করে নিয়েছি। তাই তিনি ‘উমরাহ’র জন্য ইহ্‌রাম বাঁধলেন। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি রওয়ানা হলেন, যখন বায়দা নামক স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি হজ্জ এবং ‘উমরাহ উভয়টির জন্য ইহ্‌রাম বেঁধে বললেন, হজ্জ এবং ‘উমরাহ’র ব্যাপার তো একই। এরপর তিনি কুদাইদ নামক স্থান হতে কুরবানীর জানোয়ার কিনলেন এবং মক্কা পৌঁছে (হজ্জ ও ‘উমরাহ) উভয়টির জন্য তাওয়াফ করলেন। উভয়ের সব কাজ শেষ করা পর্যন্ত তিনি ইহ্‌রাম খুললেন না। (১৬৩৯)
(আঃপ্রঃ ১৫৭৬, ইঃফাঃ ১৫৮৩)

২৫/১০৬. অধ্যায়ঃ

যে ব্যক্তি যুল-হুলাইফা হতে (কুরবানীর পশুকে) ইশ্‘আর এবং কিলাদা করে পরে ইহ্‌রাম বাঁধে।
নাফি‘ (রহঃ) বলেন, ইব্‌নু ‘উমর (রাঃ) মদীনা হতে যখন কুরবানীর জানোয়ার সাথে নিয়ে আসতেন তখন যুল-হুলাইফায় তাকে কিলাদা পরাতেন এবং ইশ্‘আর করতেন। ইশ্‘আর অর্থাৎ উটকে কিবলামুখী করে বসিয়ে বড় ছুরি দিয়ে কুজের ডান পার্শ্বে যখম করতেন।

১৬৯৪

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ وَمَرْوَانَ قَالاَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ مِنْ الْمَدِينَةِ فِي بِضْعَ عَشْرَةَ مِائَةً مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِذِي الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ النَّبِيُّ الْهَدْيَ وَأَشْعَرَ وَأَحْرَمَ بِالْعُمْرَةِ
মিসওয়ার ইব্‌নু মাখরামা ও মারওয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তাঁরা উভয়েই বলেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মদীনা হতে বের হয়ে যুর-হুলাইফা পৌঁছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশ‘আর করলেন। এরপর তিনি ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধলেন।
(১৬৯৪=১৮১১. ২৭১২, ২৭৩১, ৪১৫৮, ৪১৭৮, ৪১৮১) (১৬৯৫=২৭১১, ২৭৩২, ৪১৫৭, ৪১৭৯, ৪১৮০) (আঃপ্রঃ ১৫৭৭, ইঃফাঃ ১৫৮৪)

১৬৯৫

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللهِ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ عَنْ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ وَمَرْوَانَ قَالاَ خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ مِنْ الْمَدِينَةِ فِي بِضْعَ عَشْرَةَ مِائَةً مِنْ أَصْحَابِهِ حَتَّى إِذَا كَانُوا بِذِي الْحُلَيْفَةِ قَلَّدَ النَّبِيُّ الْهَدْيَ وَأَشْعَرَ وَأَحْرَمَ بِالْعُمْرَةِ
মিসওয়ার ইব্‌নু মাখরামা ও মারওয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তাঁরা উভয়েই বলেছেন, হুদায়বিয়ার সন্ধির পর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক হাজারেরও অধিক সাহাবী নিয়ে মদীনা হতে বের হয়ে যুর-হুলাইফা পৌঁছে কুরবানীর পশুটিকে কিলাদা পরালেন এবং ইশ‘আর করলেন। এরপর তিনি ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধলেন।

(১৬৯৪=১৮১১. ২৭১২, ২৭৩১, ৪১৫৮, ৪১৭৮, ৪১৮১) (১৬৯৫=২৭১১, ২৭৩২, ৪১৫৭, ৪১৭৯, ৪১৮০) (আঃপ্রঃ ১৫৭৭, ইঃফাঃ ১৫৮৪)

১৬৯৬

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فَتَلْتُ قَلاَئِدَ بُدْنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيَّ ثُمَّ قَلَّدَهَا وَأَشْعَرَهَا وَأَهْدَاهَا فَمَا حَرُمَ عَلَيْهِ شَيْءٌ كَانَ أُحِلَّ لَهُ
‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নিজ হাতে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি। এরপর তিনি তাকে কিলাদা পরিয়ে ইশ‘আর করার পর পাঠিয়ে দিয়েছেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল এতে তা হারাম হয়নি।
(১৬৯৮, ১৬৯৯, ১৭০১ হতে ১৭০৫, ২৩১৭, ৫৫৬৬, মুসলিম ১৫/৬৪, হাঃ ১৩২১) (আঃপ্রঃ ১৫৭৮, ইঃফাঃ ১৫৮৫)

২৫/১০৭. অধ্যায়ঃ

উট এবং গরুর জন্য কিলাদা পাকানো।

১৬৯৭

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا يَحْيَى عَنْ عُبَيْدِ اللهِ قَالَ أَخْبَرَنِي نَافِعٌ عَنْ ابْنِ عُمَرَ عَنْ حَفْصَةَ قَالَتْ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم مَا شَأْنُ النَّاسِ حَلُّوا وَلَمْ تَحْلِلْ أَنْتَ قَالَ إِنِّي لَبَّدْتُ رَأْسِي وَقَلَّدْتُ هَدْيِي فَلاَ أَحِلُّ حَتَّى أَحِلَّ مِنْ الْحَجِّ
হাফসা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! লোকদের কী হল তারা হালাল হয়ে গেল আর আপনি হালাল হলেন না? আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তো আমার মাথার তালবিদ করেছি এবং আমার কুরবানীর জানোয়ারকে কিলাদা পরিয়ে দিয়েছি, তাই হজ্জ সমাধা না করা পর্যন্ত আমি হালাল হতে পারি না। (১৫৬৬)
(আঃপ্রঃ ১৫৭৯, ইঃফাঃ ১৫৮৬)

১৬৯৮

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ حَدَّثَنَا ابْنُ شِهَابٍ عَنْ عُرْوَةَ وَعَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ أَنَّ عَائِشَةَ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُهْدِي مِنْ الْمَدِينَةِ فَأَفْتِلُ قَلاَئِدَ هَدْيِهِ ثُمَّ لاَ يَجْتَنِبُ شَيْئًا مِمَّا يَجْتَنِبُهُ الْمُحْرِمُ
‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদীনা হতে কুরবানীর পশু পাঠাতেন, আমি তার গলায় কিলাদার মালা পাকিয়ে দিতাম। এরপর মুহরিম যে কাজ বর্জন করে, তিনি তার কিছু বর্জন করতেন না। (১৬৯৬)
(আঃপ্রঃ ১৫৮০, ইঃফাঃ ১৫৮৭)

২৫/১০৮. অধ্যায়ঃ

কুরবানীর পশুকে ইশ’আর করা।
’উরওয়া (রহঃ) মিসওয়ার (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুরবানীর পশুর কিলাদা পরান ও ইশ’আর করেন এবং ‘উমরাহ’র ইহ্‌রাম বাঁধেন।

১৬৯৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ مَسْلَمَةَ حَدَّثَنَا أَفْلَحُ بْنُ حُمَيْدٍ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فَتَلْتُ قَلاَئِدَ هَدْيِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ أَشْعَرَهَا وَقَلَّدَهَا أَوْ قَلَّدْتُهَا ثُمَّ بَعَثَ بِهَا إِلَى الْبَيْتِ وَأَقَامَ بِالْمَدِينَةِ فَمَا حَرُمَ عَلَيْهِ شَيْءٌ كَانَ لَهُ حِلٌّ
‘আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তার ইশ’আর করলেন এবং তাকে তিনি কিলাদা পরিয়ে দিলেন অথবা আমি একে কিলাদা পরিয়ে দিলাম। এরপর তিনি তা বাইতুল্লাহর দিকে পাঠালেন এবং নিজে মদীনায় থাকলেন এবং তাঁর জন্য যা হালাল ছিল তা হতে কিছুই তাঁর জন্য হারাম হয়নি। (১৬৯৬)
(আঃপ্রঃ ১৫৮১, ইঃফাঃ ১৫৮৮)

২৫/১০৯. অধ্যায়ঃ

যে নিজ হস্তে কিলাদা বাঁধে।

১৭০০

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّ زِيَادَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ كَتَبَ إِلَى عَائِشَةَ إِنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ قَالَ مَنْ أَهْدَى هَدْيًا حَرُمَ عَلَيْهِ مَا يَحْرُمُ عَلَى الْحَاجِّ حَتَّى يُنْحَرَ هَدْيُهُ قَالَتْ عَمْرَةُ فَقَالَتْ عَائِشَةُ لَيْسَ كَمَا قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَنَا فَتَلْتُ قَلاَئِدَ هَدْيِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيَّ ثُمَّ قَلَّدَهَا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم بِيَدَيْهِ ثُمَّ بَعَثَ بِهَا مَعَ أَبِي فَلَمْ يَحْرُمْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم شَيْءٌ أَحَلَّهُ اللهُ لَهُ حَتَّى نُحِرَ الْهَدْيُ
যিয়াদ ইব্‌নু আবূ সুফ্ইয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিতঃ
তিনি ‘আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট পত্র লিখলেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরবানীর পশু (মক্কা) পাঠায় তা যবহ না করা পর্যন্ত তার জন্য ঐ সমস্ত কাজ হারাম হয়ে যায়, যা হাজীদের জন্য হারাম। (বর্ণনাকারিণী) আমরাহ (রহঃ) বলেন, ‘আয়েশা (রাঃ) বললেন, ইব্‌নু ‘আব্বাস (রাঃ) যেমন বলেছেন, ব্যাপার তেমন নয়। আমি নিজ হাতে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কুরবানীর পশুর কিলাদা পাকিয়ে দিয়েছি আর তিনি নিজ হাতে তাকে কিলাদা পরিয়ে দেন। এরপর আমার পিতার সঙ্গে তা পাঠান। সে জানোয়ার যবহ করা পর্যন্ত আল্লাহ কর্তৃক হালাল করা কোন বস্তুই আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রতি হারাম হয়নি। (১৭৯৬)
(আঃপ্রঃ ১৫৮২, ইঃফাঃ ১৫৮৯)

No comments

Powered by Blogger.